
আশিকুর রহমান শান্ত, ভোলা প্রতিনিধি।
ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর চন্দ্রপ্রসাদ মৌজার প্রায় ৩০০ একর ভূমিহীনদের বন্দোবস্তীয় চাষাবাদের জমি সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অপরদিকে বুধবার ২৯ অক্টোবর কৃষক ও জমির মালিকরা চাষাবাদ করতে গেলে ওই বিএনপি নেতার ক্যাডার আখতার কানাই এর নেতৃত্বে ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদেরকে চর থেকে বেড় করে দিয়েছে সন্ত্রাসী লাঠিয়াল বাহিনী। যে কোনো মূল্যে জমির মালিকানা ধরে রাখতে চায় প্রকৃত মালিকরা। এ ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে জমির মালিক, কৃষক ও জমির দখলদারদের মধ্যে। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে স্থানীয়রা।
জানা যায়, গত ১৭ বছর আওয়ামী শাসন আমলে ভোলার আওয়ামী লীগের নেতা তোফায়েল আহমদের ভাতিজা স্বপন চেয়ারম্যান ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার চরকুঞ্জ, চর লতিফ, ভোলা সদর উপজেলার চর বাঘমারা ও চর চন্দ্রপ্রসাদের প্রায় সাড়ে তিন হাজার একর ভূমিহীনদের বন্দোবস্তিয় জমি আওয়ামী সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু আকতার কানাইয়ের মাধ্যমে চরে লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে জবর দখল করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। ফলে ১৭ বছর ধরেই জমির দখল থেকে বঞ্চিত ছিল জমির মালিকরা।
৫ আগস্টে আওয়ামী সরকারের পতনের পর তোফায়েল আহমদের ভাতিজা স্বপন চেয়ারম্যান সহ সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যুরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে ওই জমির প্রকৃত মালিকরা তাদের জমিতে চাষাবাদ শুরু করে।আওয়ামী দখলদাররা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগে এবার চরগুলোর উপর চোখ পরে বিএনপির ভূমিদস্যুখ্যাত এক নেতার।
ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া এলাকার ছিদ্দিক ফরাজির ছেলে বিএনপি নেতা জাকির ফরাজি পালিয়ে যাওয়া আওয়ামীলীগের ভূমিদস্যুদের সংগঠিত করে আকতার কানাই এর মাধ্যমে পূনরায় চর চন্দ্রপ্রসাদ সহ ওই চরগুলো দখল করে নেয় তারা।
গত ২৯ অক্টোবর বুধবার জমি চাষাবাদ করতে কৃষক ও মালিকরা চরে গেলে বিএনপি নেতা জাকিরের সন্ত্রাসী লাঠিয়াল বাহিনীর আকতার কানাইয়ের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী লাঠিয়াল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে চর থেকে তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে ভ্যাকু দিয়ে মাটি কাটা শুরু করে। এর পর্বেও ওই সন্ত্রাসীরা জমি চাষীদের একটি ট্রাকটর ভাংচুর করে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি করে। এ দখলবাজীকে কেন্দ্র করে মালিক, কৃষক ও নব্য দখলদারদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে জমির মালিক জব্বার গাজি, রাসেল মাঝি, বিকন জমাদার, শাজাহান মৃধা, জলিল মেম্বার, খোকন গাজী, সোহেল ফরাজী, কামাল বেপারী ও মাসুম সরেজমিনে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ২০০১ সালে এই চরের ভোগদখলে ছিলাম। ২০০৪ ও ২০১৩ সালে সরকার আমাদেরকে বন্দোবস্ত দেয়। সেই মালিকানায় আমরা চাষাবাদ করে আসছি। ২০০৯ সালে স্বপন চেয়ারম্যান লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে আমাদের জমি দখল করে নেয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ৫ আগস্টে স্বপন চেয়ারম্যান ও তার লাঠিয়াল বাহিনী পালিয়ে যাওয়ার পর আমরা চরে এসে চাষাবাদ শুরু করি। কিন্তু বিএনপি নেতা জাকির পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের লাঠিয়াল বাহিনীদের পুনরায় সংগঠিত করে চরগুলো দঘল করে নেয়। আমরা বাঁধা দিলে জাকির বলে, স্বপন চেয়ারম্যান যেভাবে খেয়েছে আমি সেইভাবেই চর খাইবো। আমরা এর একটি শুষ্টু সমাধান চাই। প্রশাসন যেনো আমাদের কথাগুলো শুনে ব্যবস্থা নেয়, এটাই আমাদের দাবী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জাকির ফরাজি বলেন, আমি চর চন্দ্রপ্রসাদে একটি মাছের ঘের করার জন্য মালিকদের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়েছি।
এ বিষয়ে ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু শাহাদাত মোঃ হাসনাইন পারভেজ বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমি পাই নাই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখবো।