ভোলা প্রতিনিধি।
ভালোবেসে বিয়ে এরপর টানা দীর্ঘ ১০ বছর প্রবাস জীবনে নিজের কষ্টের অর্জিত অর্থ পাঠিয়েছেন স্ত্রীর তানিয়ার নামে। শুধু তাই নয় জমি, বাড়ি সবই কিনেছেন স্ত্রীর নামে। প্রিয় মানুষটিকে শিক্ষিত করতে পড়িয়েছেন ভালো স্কুল-কলেজে। চেয়েছিলেন প্রিয় মানুষটি শিক্ষিত হোক, সম্মানিত হোক, সুখে থাকুক।
স্ত্রীর জন্য এতো কিছু করেও আজ সেই স্ত্রীর প্রতারণার শিকার ভোলার দৌলতখান উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের মধ্য জয়নগর গ্রামের সৌদি প্রবাসী বাপ্পী মিয়া। দীর্ঘদিনের কষ্টে অর্জিত সকল অর্থ নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে চলে গেছেন তার স্ত্রী। সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব বাপ্পী এখন বিচার চেয়ে ঘুরছেন মানুষের ধারে ধারে।
জানা গেছে, দশ বছর আগে বাবা-মার অনিচ্ছায় ভালোবেসে বিয়ে করেন একই এলাকার সাদিয়া আক্তার তানিয়াকে। সুখের সংসার গড়ার স্বপ্নে বাবা-মা, ভাই-বোন ত্যাগ করে স্ত্রীর হাত ধরেই নতুন জীবন শুরু করেন বাপ্পি। এরপর জীবিকার তাগিদে পারি জামন প্রবাস জীবনে। প্রবাস জীবনে নিজের কষ্টের টাকা বিশ্বাস করে পাঠিয়েছেন স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে। স্বপ্ন ছিল একদিন দেশে ফিরবেন, গড়ে তুলবেন সুন্দর ভবিষ্যৎ।
কিন্তু হঠাৎ করে জানতে পারেন স্ত্রী সাদিয়া আক্তার তানিয়া পরকীয়া প্রেমে আসক্ত। পরকীয়া প্রেমিকের কথায় গর্ভের বাচ্চাও নষ্ট করেছেন তিনি। পরকীয়া থেকে একাধিকবার সরে আসার জন্য বললেও সাদিয়া আক্তার তানিয়া তা না শুনে গেল ফেব্রুয়ারি মাসে বাপ্পিকে ডিভোর্স দিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে চলে যান।
বাপ্পির দাবী, দীর্ঘ প্রবাস জীবনে নগদ টাকা, স্বর্ণ অলংকার ও জায়গা জমিসহ প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার সম্পদ দিয়েছেন স্ত্রীকে। সবকিছু নিয়ে স্ত্রী সাদিয়া আক্তার তানিয়া বেগম পরকীয়া প্রেমিক নাজিমের হাত ধরে চলে গেছেন। বাপ্পির অভিযোগ, টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার সব কিছু নিয়েও তার স্ত্রী এখন তার নামে উল্টো মিথ্যা মামলা ও দিয়েছেন। এসময় তিনি এঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উপযুক্ত বিচার দাবী করেন।
প্রতিবেশীরা জানান, সাদিয়া আক্তার তানিয়াকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতেন বাপ্পি। তাকে ভালোবেসে পুরো পরিবার ত্যাগ করে টাকা পয়সা স্বর্ণলংকার সবকিছু করেছেন স্ত্রীর নামে। কিন্তু সাদিয়া আক্তার তানিয়া বিভিন্ন জায়গায় বাসা বাড়া নিয়ে থেকে পরকীয়া প্রেমিকদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। স্থানীয়দের হাতে একাধিকবার পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে ধরাও পরেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তানিয়া বেগমের সৎ মা বলেন, বাপ্পি তার মেয়ের নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন। অভিযুক্ত সাদিয়া আক্তার তানিয়ার সাথে কথা বলতে গেলে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে আসবে না বলে জানিয়েছেন।
স্থানীরা এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার চেয়েছেন। পাশাপাশি একজন প্রবাসীর কষ্টের অর্জিত সকল সম্পদ উদ্ধার করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই ঘটনা শুধু একজন মানুষের কষ্টের গল্প নয়, এটি হাজারো প্রবাসীর জন্য বড় একটি শিক্ষা। প্রবাসে কষ্টের অর্থ অন্ধ বিশ্বাসে কারও নামে তুলে দেওয়ার আগে সচেতন হওয়া জরুরি। ভালোবাসা থাকুক, কিন্তু নিজের অধিকার, সম্পদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনায় ভুক্তভোগী বাপ্পি মিয়া বাদী হয়ে স্ত্রী তানিয়া বেগমসহ ৩ জনকে আসামি করে দৌলতখান সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।