নিজস্ব প্রতিবেদক।
চট্টগ্রামের কারাগারে বসেই ইয়াবার ব্যবসা পরিচালনা করছে সম্প্রতি আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী জাহিদ। কারাগারে থাকলেও তার ইয়াবার ব্যবসা চলছে পুরোদমে। তার অবর্তমানে স্ত্রী রুমা বেগম এ ব্যবসার হাল ধরেছে মর্মে খবর পাওয়া গেছে। আটক জাহিদের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের লেজপাতা ১ নং ওয়ার্ডে । সে ওই এলাকার নাগর বেপারীর ছেলে।
পুলিশ ও মামলা সুত্রে জানাগেছে, গত ৫/ ৪/২৬ ইং তারিখে চট্টগ্রাম কর্ণফুলী থানার টানেলের টোল প্লাজার দক্ষিণ পাশে অস্থায়ী পুলিশ চেকপোস্টের সামনে দিয়ে রাত ৩ টার সময় একটি লোকাল মাইক্রোবাস যাওয়ার সময় পুলিশের সন্দেহকালে গাড়ি তল্লাশি চালায়। এসময় যাত্রীবেশে থাকা জাহিদ নামের এক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ২ হাজার ৩৫ পিস ইয়াবার একটি বড় চালানসহ তাকে আটক করে কর্ণফুলী থানার এস আই মিজানূর রহমানের নেতৃত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনায় ৫/৪/২৬ ইং তারিখে কর্ণফুলী থানায় মাদক ব্যবসায়ী জাহিদের বিরুদ্ধে এস আই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং- ৯ ।
এদিকে ধৃত জাহিদকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে
বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদ স্বীকার করেছে, সে দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট এনে পাইকারি ভাবে চট্রগ্রাম,,ঢাকা এবং দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদক ব্যবসা করে আসছে।
পুলিশ সূত্রে আরে জানা গেছে , ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল মাসে দৌলতখান পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের বিসমিল্লাহ ফার্নিচার এন্ড নকশা দোকানে থাকা অবস্থায় মাদক ব্যবসা চালাতো। পুলিশ গোপন সংবাদে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তার কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আবারও ইয়াবার ব্যবসা আরো জোরদার করে। একপর্যায়ে সে চট্টগ্রামের কক্সবাজার থেকে বড় বড় ইয়াবার চালান এনে নিজ এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাইকারী ভাবে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম জেলহাজতে রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জাহিদ শুধুমাত্র একজন খুচরা মাদক বিক্রেতা নয়, বরং একটি বড় নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করতো। সে নিজেই বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে মাদক সংগ্রহ করে দৌলতখানসহ আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করতো। তার কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত গোপনীয় এবং পরিকল্পিত, যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ছিল।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, জাহিদের জীবনযাত্রার ধরন হঠাৎ করেই বদলে যায়। একসময় আর্থিক সংকটে থাকা এই ব্যক্তি অল্প সময়ের মধ্যেই বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। তার চলাফেরা, পোশাক-আশাক এবং ব্যয়বহুল জীবনধারা দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসাী জাহিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্ত চলছে। প্রাথমিক ভাবে সে একজন বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে প্রমান পাওয়া গেছে।