ভোলা প্রতিনিধিঃ
দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে জমি বিক্রি করে আবার ওই জমি অন্যত্র প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করেছেন মৃত অলিউডর রহমানের ছেলে নুরুল ইসলাম। শুধু জমি বিক্রি করেই খ্যান্ত হয়নি সে। ভুক্তভোগীকে মারধরসহ বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে নুরুল ইসলাম।
ক্রয়কৃত জমির মালিক ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম অভিযোগ করে জানায়, গত ১/১/২০১০ সালে তার আপন খালু শশুর নুরুল ইসলাম ৫৮০/খতিয়ানের, দাগ নং ৫২৬১ /৫২৬২/৫২৬৩/৫২৬৮/৫২৬৯/৫২৭০/ ৫২৭১/ ৫২৭২/ ৫২৭৩/ ৫২৭৪/ ৫২৭৫ এর মধ্য থেকে ০৮ শতাংশ জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে মরিয়মের সাথে বেচা বিক্রির সকল কথা সম্পন্ন হলে মরিয়ম থেকে তৎকালীন সময়ে স্ট্যাম্পে সাক্ষর দিয়ে ৩০ হাজার টাকা নেয় নুরুল ইসলাম। ওই জমি ৪/৬/২০০৯ সালে নুরুল ইসলাম খরিদ সুত্রে মালিক হয়েছেন ।
মরিয়ম থেকে টাকার লেনদেন বুঝুে পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে ওই জমি মেপে দখল দেয় তাকে । সে থেকে ওই জমিতে নারিকেল, সুপারি ও রেইনট্রি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে ভোগ দখল করে আসছেন মরিয়ম। মরিয়ম জানায়, টাকা নেয়ার প্রায় ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও দলিল রেজিষ্ট্রারী না দিয়ে নানাভাবে তালবাহানা করে আসছে প্রতারক নুরুল ইসলাম। উপায়ন্তর না পেয়ে নুরুল ইসলাম থেকে খরিদা জমির রেজিস্ট্রারী পেতে ভুক্তভোগী মরিয়ম ভোলার আদালতে দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা দায়ের করে এখন পর্যন্ত কোন প্রতিকার পায়নি বলে মরিয়ম জানান। তবে ওই জমির দেওয়ানী মামালা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই দাগ খতিয়ানের জমি অন্য কোথাও ক্রয় বিক্রির দলিল রেজিষ্ট্রারী যাতে না হয়, সেজন্য গত ১৬/৩/ ২২ ইং তারিখে বাংলাবাজার সাব রেজিস্ট্রার বারাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন মরিয়ম।
আবার ভোলার দেওয়ানী আদালত থেকেও সাব রেজিস্ট্রার বরাবর নোটিশ পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে প্রতারক নুরুল ইসলাম মরিয়মকে জমির দলিল রেজিস্ট্রার না দিয়ে গোপনে ৭ নং ওয়ার্ডের আব্বাসউদ্দিনের স্ত্রী চায়না বেগমের কাছে ওই জমি বিক্রি করেছে মর্মে গত ৩/৩/২২ ইং তারিখে মরিয়মকে জমির দখল ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয় প্রতারক নুরুল ইসলাম।
এদিক প্রতারক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মরিয়মের দায়ের করা জাল জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় নুরুল ইসলাম ১৫ দিন জেল খেটে বাদীর সাথে দলিল রেজিষ্ট্রারী দিয়ে মিমাংসার শর্তে জামিনে বেরিয়ে আবারও প্রতারণা অব্যাহত রেখেছেন ধুরন্দর নুরুল ইসলাম। নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৃত সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী মরিয়ম। অভিযুক্ত নুরুল ইসলামকে বারবার ফোন দিলেও সে ফোন ধরেনি।