
মোঃ মনিরউদ্দিন খান,ভোলা প্রতিনিধি।
৫ দফা দাবি উত্থাপন“জনগণের ন্যায় ও গণঅধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের বিকল্প নেই”
আসন্ন ২ ডিসেম্বর বরিশাল বিভাগীয় মহাসমাবেশকে সফল করতে ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন–দৌলতখান) এলাকায় সমমনা আট ইসলামী দলের উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বোরহানউদ্দিনের বাংলাবাজার ফাতেমা খাঁনম কলেজ সংলগ্ন তোফায়েল আহমেদ নির্মিত জামে মাসজিদে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন
হাজীপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার সম্মানিত উপাধ্যক্ষ
মাওলানা অলিউল্লা কবির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি ইমাম মো. রেযাউল করীম বুরহানী। তিনি বলেন,
“২ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ কোনো দলীয় জোটের অনুষ্ঠান নয়,এটি জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রে গণভোট-নির্ভর সুশাসন নিশ্চিত করার সংগ্রাম।
সভায় উপস্থিত নেতারা জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সমমনা আট দলের ঘোষিত ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন।
সমমনা আট ইসলামী দলের ৫ দফা দাবি
১. জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা।
রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠন ও জনগণের সার্বভৌমত্বকে কার্যকর করতে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও আইনি ভিত্তি প্রদান করতে হবে।
২. নির্বাচন পূর্ব গণভোট ও পিআর (Proportional Representation) ভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা
নির্বাচনের আগে জনগণের মতামত যাচাই করতে গণভোট আয়োজন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চালুর দাবি জানানো হয়।
৩. সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’
প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক মাঠ সমতা নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়—এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
৪. জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করা
জুলাই মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তদন্ত, বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়।
৫. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা
রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগকারী দলগুলোর রাজনৈতিক একচেটিয়াতা ভেঙে দিতে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়।
সমমনা আট দল — পরিচয়, প্রতীক, নেতৃত্ব
উল্লেখিত সমমনা আট দল হলো।
১. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমীর: শফিকুর রহমান।
২. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমীর: সৈয়দ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই)
৩. বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মহাসচিব: মামুনুল হক।
৪. খেলাফত মজলিস আমীর আব্দুল বাছিত আজাদ।
৫. বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আমীর: মাওলানা হাবিবউল্লাহ মেয়াজী।
৬. জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) — সভাপতি: তাসমিয়া প্রধান।
৭. নেজামে ইসলাম পার্টি চেয়ারম্যান: সরওয়ার কামাল আজিজী।
৮. বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) চেয়ারম্যান: আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।
উল্লেখ্য এই আট দলের মধ্যে নেজামে ইসলাম পার্টি বর্তমানে কার্যক্রমে সক্রিয় না থাকায় সভায় উপস্থিত ছিল না।
সভায় উপস্থিত ছিলেন,
ভোলা জেলা জামাত ইসলামের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সম্মানিত জেলা নেতৃবৃন্দ।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমির
দৌলতখান উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমির রহমতে
দৌলতখান উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক
বোরহানউদ্দিন উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সম্মানিত দায়িত্বশীলবৃন্দ।
খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও অন্যান্য ইসলামী দলের প্রতিনিধি
ভোলা-২ আসনের স্থানীয় সমন্বয়কারী ও গণসংযোগ টিমের সদস্যরা।
সভায় আগত নেতৃবৃন্দ বলেন,
“সমমনা ইসলামী দলগুলোর এই ঐক্য জাতির রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করবে এবং জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
সভায় ২ ডিসেম্বর মহাসমাবেশকে সফল করতে মিছিল, প্রচার, জনসংযোগ, পরিবহনব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগসহ একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরিশেষে দোয়া ও মোনাজাতে মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।