
মোঃজুয়েল রানা,ভোলা প্রতিনিধি।
ভোলার সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সংলগ্ন মাদ্রাসা বাজারের উত্তর পাশে, মোকলেজ মোহরীর বাড়ির বিপরীত পাশে মেস্তুরি বাড়ির হাজী শহিদুল ইসলামের পরিত্যক্ত বসতভিটার দেওয়াল ভেঙে জমি দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ও প্রত্যক্ষদর্শী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মো. মামুনূর রশিদ কোনো এক অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে ইউসুফ, মেহেদীসহ আরও ১০–১২ জন বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে পরিত্যক্ত বসতঘরের দেওয়াল ভাঙচুর করেন।
ভুক্তভোগী হাজী শহিদুল ইসলামের ভাতিজা ফারুক বলেন, তিনি আমার চাচার কাছ থেকে জমি কিনেছেন বলে দাবি করছেন, তবে কোথা থেকে বা কিভাবে কিনেছেন—তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বসতভিটার পেছনের অংশ ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ কিছুদিন ধরে সামনের খোলা জমি দখলের উদ্দেশ্যে নানান চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় পরিত্যক্ত বসতঘরটি ভাঙচুর করা হয়।
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫ বছর ধরে ওই বসতঘরে কেউ বসবাস করেন না। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা দিনদুপুরে বসতঘরটি দখলের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাজী শহিদুল ইসলামের পুত্রবধূ রাবেয়া বলেন, “আমি বাসায় একা থাকি। আমার ৬ বছর বয়সী ছেলে আবরার আছে। ইউসুফসহ কয়েকজন আমাদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে, যেন আমরা তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা থানায় সাধারণ ডায়েরি না করি। আমাকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি ইউসুফ খারাপ প্রস্তাব দিয়েছে, আমি রাজি না হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বর্তমানে আমি ও আমার সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”
এ বিষয়ে আলহাজ্ব হাফেজ মাওঃ মো. মামুনূর রশিদ বলেন, “আমি ওই জমি কিনেছিলাম, কিন্তু তারা আমাকে জমি বুঝিয়ে দিচ্ছে না। বহুবার সমাধানের জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়েছে। পরে থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করে বসতঘরটি ভাঙা হয়েছে, কারণ এটি আমার ক্রয়কৃত জমি।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে