• শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ন
  • |
  • English Version
  • |
Headline :
মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় জনতার ঢল, উত্তর জয়নগরে আলোচনায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসান খান ভোলায় তথ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প ভোলায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চলছে মা ইলিশ শিকার, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ভোলার দৌলতখানে মাদ্রাসায় চলছে নিয়োগ পরীক্ষা তথ্যমন্ত্রীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা পেল ২০ হাজার মানুষ তজুমদ্দিনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে চাঁদপুর ইউনিয়নে জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ ভোলা পৌরসভায় মশক নিধন কার্যক্রমে ৪১ লাখ টাকা অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভোলার গ্যাস বদলে দিতে পারে দেশের জ্বালানির ভবিষ্যৎ ভোলার গ্যাস বদলে দিতে পারে দেশের জ্বালানির ভবিষ্যৎ দৌলতখানে পুর্বশত্রুতার জেরধরে সন্ত্রাসী হামলায় আহত লিটন

ভোলায় থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ঈমনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা

Reporter Name / ১৭৭০১ Time View
Update : রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫

আশিকুর রহমান শান্ত, ভোলা প্রতিনিধি।

জেলায় দুরারোগ্য ‘থ্যালাসেমিয়া’ রোগে আক্রান্ত মো. ঈমন (১৮)। দরিদ্র রিকশাচালক বাবা তার ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিজের জমি ও বসতভিটা বিক্রি করেছেন বহু আগেই। নিজেদের বাড়ি-ঘর নেই। অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকেন ঈমনের পরিবার। অর্থকষ্টে জর্জরিত, তাই ছেলের চিকিৎসা করাতে হিমসিম খাচ্ছেন। অভাবের সংসারে যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, সেখানে ছেলের চিকিৎসা তো দু:স্বপ্ন। ফলে চিকিৎসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। অবশেষে অসুস্থ ঈমনের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভোলার গণমাধ্যমকর্মীরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈমন ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের মহাজনের পোল এলাকার রিক্সাচালক আবুল বাশার মিয়ার ছেলে। বর্তমানে ওই এলাকার লাল মিয়া হাওলাদার বাড়িতে ভাড়া থাকেন তার পরিবার। 

অসুস্থ্য ঈমন জানান, তারা এক ভাই এক বোন। প্রায় ৭/৮ বছর আগে তার থ্যালাসেমিয়া রোগটি ধরা পরে। পরে তার বাবা রিক্সা চালানোর আয় দিয়ে ভোলা, বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তার চিকিৎসা করিয়েছেন। চিকিৎসার খরচ জোগাতে তার বাবা বহু আগেই জমি ও শেষ সম্বল বসতভিটা বিক্রি করে এ পর্যন্ত ১০/১২ লাখ টাকা খরচ করেছেন। এরপর তার বাবা রিক্সা চালানোর সামান্য আয় দিয়ে আর চিকিৎসা করাতে পারছিল না। তাই বাধ্য হয়ে ঈমন কয়েক বছর আগে ভোলা শহরের কাঁচা বাজারের একটি ডিমের দোকানে চাকরি নেন। সেখানে সে মাসে ৮ হাজার টাকা বেতন পান। 

ঈমন আরো জানান, তার প্রতি মাসে দুই হাজার টাকার ওষুধ লাগে। প্রতি মাসেই ডাক্তার ও শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে হয় এবং প্রতি ৩/৪ মাসে তার শরীরে রক্ত দিতে হয়। সব মিলে বহু খরচ গুনতে হয় তার পরিবারকে। কিন্ত রিকশাচালক বাবার আয় ও তার বেতনের টাকায় বর্তমানে চিকিৎসা করাতে হিমশিম খাচ্ছিল। এখন চিকিৎসা প্রায় বন্ধের পথে। 

ঈমন জানান, এরই মধ্যে একদিন ডিম কিনতে গেলে পরিচয় হয় “ভোলা জার্নালিস্ট ফোরাম” সভাপতি মো. শাহিন কাদেরের সাথে। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলে আমি তাকে সব জানাই। এরপর তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আমার চিকিৎসার সব খরচ বহনের। এখন তারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি ও আমার পরিবার তার কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের জন্য আমি ও আমার পরিবার অনেক অনেক দোয়া করি। 

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ভোলা জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি মো. শাহিন কাদেরের সাথে। তিনি জানান, শনিবার (৪ অক্টোবর) থেকে আমিসহ আমার সংগঠনের সকল সদস্য গণমাধ্যমকর্মীরা ঈমনের পাশে রয়েছি। তার চিকিৎসা, ওষুধসহ যাবতীয় খরচ আমরা ভোলা জার্নালিস্ট ফোরামের সকল সদস্য বহন করবো এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে আমরা ঈমনকে ঢাকা নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ্য করে তোলার জন্য যা যা করা দরকার আমরা তা-ই করবো। 

এদিকে শনিবার ঈমনকে রক্ত দিয়ে মানবিক মূল্যবোধ দেখান গণমাধ্যমকর্মী শাহিন কাদের। সাংবাদিক শাহিন কাদের বলেন, আমি এক ব্যাগ রক্ত দিয়েছি। পরবর্তীতে আমাদের সংগঠনের যাদের রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ তারা সবাই ঈমনকে রক্ত দেবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন জানান, আমাদের সভাপতির মাধ্যমে ৪/৫ দিন আগে ঈমনের বিষয়টি জানতে পেরে আমরা মিটিং ডেকে সবাই মিলে সামর্থ অনুয়ায়ী সহযোগিতা শুরু করেছি। এই সহযোগিতা অব্যহত থাকবে। 

অসুস্থ ঈমনের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়ে ভোলার গণমাধ্যমকর্মীরা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় বিত্ত্ববানদের অনেকেই ঈমনের জন্য সহায়তার আশ্বাস দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category