বিশেষ প্রতিনিধি।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ও অধীনে পরিচালিত সব ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারির পরও ভোলার দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর ইসলামিয়া কামিল (এস.এ) মাদ্রাসায় আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে পৌরসভায় অবস্থিত মাদ্রাসার ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনার মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষা চলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই দিন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন নির্দেশনার পরদিনই হাজিপুর ইসলামিয়া কামিল (এস.এ) মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনার মধ্যে কীভাবে এ পরীক্ষা নেওয়া হলো? আগে থেকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়ে থাকলেও পরবর্তী নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।
শুক্রবার সকালে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দ্বিতীয় তলায় আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ১০ জন প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তবে মাদ্রাসার আশপাশে নিয়োগ পরীক্ষাসংক্রান্ত কোনো নোটিশ চোখে পড়েনি। এদিকে পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।
প্রফেসর ডা. অলিউল্লাহও সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দেননি।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক ভূঞার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি তাঁরা আগের রাতে জানতে পেরেছেন। আগে থেকে বিষয়টি জানা থাকলে তাঁরা পরীক্ষা নিতে আসতেন না বলেও জানান তিনি।
পরিচালক আরও বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি আগে থেকেই দেওয়া হয়েছিল। এখন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাবে। সেগুলো গ্রহণ করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। গ্রহণ করা না হলে নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি জানান।